
আনন্দের ঈদ স্বজনদের সঙ্গে করতে কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়ছে। এটা বরাবরই ঘটে, ব্যতিক্রম নয় এবারও। তবে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই ঈদ যাতায়াত সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। সেদিকে সরকারের মনোযোগ না দেখে হতাশও তাঁরা।
ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়েছে আজ সোমবার। তবে তার আগে থেকেই ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। এই যাত্রা আগামী বৃহস্পতিবার ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ঈদের আগের তিন-চার দিনে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ে।
‘ঈদের পর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে’
১৮ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৬৪ জনের। এর আগের সাত দিনে মারা যায় ৪০ জন।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যেভাবে সারা দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে, তাতে ঈদের ছুটির পর সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে নজরুল ইসলাম বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যে শিশু এখনো আক্রান্ত হয়নি, সে যদি এমন এলাকায় যায়, যেখানে আগে থেকেই হাম ছড়িয়ে আছে, তাহলে আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এসে সে–ও সংক্রমিত হতে পারে।
ঈদযাত্রার সময় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় থাকে। সেটাও ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখালেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, বাস, লঞ্চ বা ট্রেনে যদি আক্রান্ত শিশু থাকে, তাহলে সেখানে অন্য শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
সরকারের ‘মনোযোগ নেই’
দুই সন্তানকে ঈদে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় এবার অনেকটা সাবধান ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সানাউল্লাহ। তাঁর এই সাবধানতা হাম নিয়ে। তাঁর এক সন্তানের বয়স সাত বছর, আরেকজনের চার বছরের বেশি। এই দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে সানাউল্লাহ গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দীন উপজেলায় গেছেন লঞ্চে। ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন তিনি।
হাম সংক্রমণ থেকে কীভাবে মানুষ নিরাপদে চলবে, তার কোনো নির্দেশনা দেখতে পাননি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো প্রচার আমার চোখে পড়েনি। আমি সাবধান থেকেছি। অনেকেই হয়তো থাকবে না।’
হামের সংক্রমণ বাড়লেও ঈদযাত্রার বিষয়টিতে সরকারের মনোযোগ না দেখার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরাও।
অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘হাম নিয়ে ব্যাপক সরকারি জনসচেতনতামূলক প্রচার দরকার। সেটা আমরা খুব একটা দেখছি না।’
একই কথা বলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলামও। তাঁর ভাষ্যে, ‘মনে হয়েছে সরকার অমনোযোগী। হয়তো রোগটাকে মামুলি হিসেবে দেখানোর একটা চেষ্টা আছে।’
হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি এরই মধ্যে বাতিল করে তাঁদের কর্মস্থল না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
তবে এটা মূল সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বে–নজির আহমদ।
বে-নজির আহমদ বলেন, এভাবে চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশ দেওয়াটাই সহজ পন্থা। একটা পরিপত্র জারি করলেই হলো। কিন্তু রোগটা যাতে না ছড়ায়, সেটি নিয়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বে–নজির আহমদের মতে, সরকারের এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত নজরদারি বাড়ানো ও শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
collected - প্রথম আলো