
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছ বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ)।
এ ঘটনায় অবহেলা বা দায়িত্বে ঘাটতির প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।
তবে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান নয় বলে জানায় তারা।
আজ সোমবার (১৫ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় বিপিএইচসিডিএ’র অফিস সেক্রেটারি ডা. আরিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানান তারা।
বিপিএইচসিডিএ’র সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল ও মহাসচিব ডা. এ.এম. শামীম যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনাদায়ক এবং অনাকাঙ্খিত।’
এতে বলা হয়, তদন্তের মাধ্যমে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অবশ্যই প্রয়োজন। একই সাথে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়া আবশ্যক।
লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করে দেওয়া সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান নয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যবিত্ত, গরীব ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুয়েরা যারা ব্যয়বহুল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে সমর্থ নয়। এটা মোটেও কাম্য নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ও চিকিৎসাজনিত জটিলতার ঘটনা ঘটে থাকে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ত্রুটি নিরূপণ, সংশোধনমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, দায়ী ব্যক্তিবর্গদের চিহ্নিত করে শাস্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নের স্বার্থে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় পরিচালনার বিবেচনার বিষয়ে বলা হয়, আদ-দ্বীন হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় তদারকি, নির্দেশনা ও সংশোধনমূলক শর্তসাপেক্ষে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গৃহীত যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত যেন বিধিসম্মত প্রতিক্রিয়া ভিত্তিতে হয়, সেটিই কাম্য।
নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশনে বিপিএইচসিডিএ’র কোনো প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের তদন্ত ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হলে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রয়োজনীয় সুপারিশ সহজ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিপিএইচসিডিএ সবসময় সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।