
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সপ্তাহখানেক আগে নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের। নিবন্ধন ফেরত পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে সে পথে যেতে রাজি নয় আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। বরং মানবিক বিবেচনায় হাসপাতালটি খুলে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে তারা।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো সাড়া মেলেনি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল নয়, আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় হাসপাতাল চালু করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি, রোগীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
এদিকে হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের কয়েক শ শিক্ষার্থীর ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে (ব্যবহারিক শিক্ষা) জটিলতা দেখা দিয়েছে। সমস্যা আরও বেশি প্রকট হয়েছে কলেজটিতে অধ্যয়নরত আড়াই শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে, যাদের বড় অংশই ভারতীয়। দেশটির মেডিকেল আইন অনুযায়ী, দেশের বাইরে মেডিকেলে পড়লে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে; অন্য কোনো কলেজে মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) হলে সেই ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হবে না।]
এ বিষয়ে অধ্যাপক সবুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পাঁচ-ছয়দিন হলো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি, আশা করছি সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলেছে, হাসপাতালের সেই সব প্রক্রিয়া শেষের পথে। আশা করছি দ্রুতই হাসপাতাল খুলে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিকল্প হিসেবে ঢাকাতেই আমাদের আরও দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। প্রয়োজনে বাসে করে শিক্ষার্থীদের সেখানেও নেওয়া যাবে। কাজেই শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।