বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ কে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর হেপাটোলজি বিভাগ এবং বিএমইউ হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞগণ লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, সিস্টেমিক আধুনিক চিকিৎসা, লিভার প্রতিস্থাপনভিত্তিক চিকিৎসা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও শনাক্তকরণে জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ বা জনসংখ্যাভিত্তিক লিভার ক্যান্সার রেজিস্ট্রির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জাতীয় এইচসিসি রেজিস্ট্রি গঠন, সমন্বিত গবেষণা এবং লিভার প্রতিস্থাপনভিত্তিক চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা জরুরি। লিভারের রোগ প্রতিরোধে ফ্যাটি লিভার, বি ভাইরাস, সি ভাইরাসের চিকিৎসা ও করণীয় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এখন সময়েরই দাবি। অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এর রোগীরা লিভার রোগে আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। সেদিকে আরো দৃষ্টি দিতে হবে। সাথে সাথে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে জনসংখ্যাভিত্তিক রেজিস্ট্রির দিকেও নজর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, প্রতিবছর লিভার রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক রোগী দেশের বাহিরে যান। আমাদের মুল লক্ষ্য হল বাংলাদেশেই লিভার রোগের সব ধরণের উন্নত ও আধুনিক মানসম্মত চিকিৎসা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করা। প্রকৃতপক্ষে, লিভার রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য, সেটা যেমন নিশ্চিত করতে হবে একই সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আধুনিক আবিষ্কার ও নব নব সংযোজনকে রোগীদের সার্বিক চিকিৎসায় কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্ক্রিনিং, জাতীয় রেজিস্ট্রি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, শিক্ষক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্যানেল আলোচনায় দেশের প্রখ্যাত হেপাটোলজিস্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, অনকোলজিস্ট, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন, ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিস্ট, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এসএএস
এসএএস