ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ইউনিট প্রধান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সার্জারি বিভাগের ইউনিট-৬ এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ শফিউর রহমানকে সরিয়ে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমাদ সামি-আল-হাসানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানান, অধ্যাপক ডা. শফিউর রহমান দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং তিনি সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমাদ সামি-আল-হাসানের তুলনায় ১০ বছরের সিনিয়র। তাদের দাবি, কোনো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এই দায়িত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এরপূর্বে উনি উনার ৭ বছরের সিনিয়র প্রফেসরকে ডিঙিয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্সের ডীন হয়েছিলেন।
যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাম রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষার জন্য স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার স্বাস্থ্যখাতকে স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানে এসব অহেতুক হয়রানী স্বাস্থ্য খাতকে অস্থিতীল করে তুলবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কিছু চিকিৎসককে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে কোণঠাসা করা হচ্ছে, আবার অন্যদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোজ নিয়ে জানা গেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনের সময় মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় ২৩ শে জুলাই মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয় শিশু সুরাইয়া। শুরুতে মাগুরা সদর হাসপাতালে যিনি এই শিশু এবং তার মাকে চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাচানোর ব্যাপারে ভূমিকা রাখেন তিনি এই অধ্যাপক ডা. মোঃ শফিউর রহমান। অথচ তাকেই আজ হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে চিকিৎসকদের একটি অংশ বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় এর প্রভাব বিভাগীয় কার্যক্রম ও কর্মপরিবেশের ওপর পড়তে পারে।
হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সিকান্দার আবু সাইম