দেশে অপটোমেট্রিস্টরাও রোগী দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। সরকার অপটোমেট্রিস্ট বা চক্ষুবিষয়ক চিকিৎসা পেশাজীবীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ায় এই সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এখন নীতিমালা তৈরির কাজ হচ্ছে। নীতিমালা হয়ে গেলে অপটোমেট্রিস্টরা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে চোখের সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় অপটোমেট্রিস্টরা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চশমা ও কন্টাক্ট লেন্স নির্ধারণ, শিশু ও স্কুলভিত্তিক আই স্ক্রিনিং, ছানি, গ্লুকোমা ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত এবং রোগীকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি দুই লাখ মানুষের জন্য আছেন মাত্র একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ (অপথালমোলজিস্ট)। তাদের অধিকাংশই রাজধানী বা বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপটোমেট্রিস্টরা প্রাথমিক চক্ষুসেবার সবচেয়ে কার্যকর মানবসম্পদ হতে পারেন। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত অপটোমেট্রিস্টের সংখ্যা মাত্র ২০০। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, একজন অপথালমোলজিস্টের বিপরীতে চারজন অপটোমেট্রিস্ট থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাবে দেশে প্রয়োজন অন্তত চার হাজার ৮০০ জন অপটোমেট্রিস্ট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, অপটোমেট্রিস্টদের নিবন্ধন দেওয়ার উদ্যোগ ভালো। তবে এ পেশার কার্যক্রমে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ১৩ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী সরকার এ স্বীকৃতি দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইনের প্রথম তপশিলের ৪(খ) ধারার আওতায় অপটোমেট্রি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং এক বছর মেয়াদি ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারীদের ‘অপটোমেট্রিস্ট প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুমোদন করা হয়েছে।
অপটোমেট্রি বিষয়ে প্রশিক্ষণ বর্তমানে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ইত্তেহাদ কলেজ অব হেলথ সায়েন্স ও সাইক কলেজ অব হেলথ সায়েন্সে এ কোর্স চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি স্বীকৃতির ফলে এ শিক্ষার সম্প্রসারণের পথ আরও উন্মুক্ত হবে। সর্বশেষ জাতীয় জরিপ (২০২১-২২) অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দশমিক ৬৯ শতাংশ মানুষ অন্ধত্বের শিকার এবং প্রায় ৩ শতাংশ মানুষ ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ অপটোমেট্রিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। অপটোমেট্রিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, সরকারের স্বীকৃতি অপটোমেট্রি পেশার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অপটোমেট্রিস্টরা চক্ষুসেবার প্রথম সারির মানবসম্পদ। তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক অঞ্চলে নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অপ্রয়োজনীয় অন্ধত্ব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সিকান্দার আবু সাইম