ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপটোমেট্রিস্টরা রোগী দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ঈদের ছুটিতে হামের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে পিরিয়ড সচেতনতায় ফ্রেশ অনন্যার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘প্যাড আছে, লাগবে?’ কাগুজে শয্যা বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক নীরব বিপর্যয় হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু ১৮ উপজেলায় হামের সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কোটায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা রোগীর সংখ্যা ৯শ’ ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও ঢাবির মেডিকেল-ডেন্টালের প্রফ পরীক্ষার সেরাদের সম্মাননা দেবে ছাত্রশিবির ঢামেক সার্জারি বিভাগে ইউনিট প্রধান পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক হাম ও উপসর্গে আরও ১৬ জনের মৃত্যু এক হাজার শয্যায় উন্নীত হচ্ছে মুগদা মেডিকেল ডা. লি জং-উক স্মারক পুরস্কারে ভূষিত কিংবদন্তি চিকিৎসক অধ্যাপক আবুল ফায়েজ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন পরিচালক ডা. মো. মামুনুর রশীদ কারিনার ভুল চিকিৎসার অভিযোগের জবাব ডা. সাকলায়েন রাসেলের উন্নত বিশ্বের মতো আধুনিক ও জনবান্ধব চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে: ইউনিসেফ ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জেনেসিস অনলাইন ইউনিভার্সিটিতে মেডি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত টিকার ঘাটতিতেই বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, এএমআর রুখতেও টিকাদান জরুরি ভয়াবহ বিপদ থেকে বাঁচতে, শরীরের এই ৮ লক্ষণ সম্পর্কে জানুন

কাগুজে শয্যা বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক নীরব বিপর্যয়

কাগুজে শয্যা বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক নীরব বিপর্যয় ছবির ক্যাপশন: ছবি: এআই নির্মিত

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে, দেশের বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জনবল, অবকাঠামো ও চিকিৎসাসামগ্রী বৃদ্ধি না করেই কেবল প্রশাসনিক আদেশে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে একে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন মনে হলেও, বাস্তবে এটি একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ছাড়া শুধু কাগজে-কলমে শয্যা বৃদ্ধি করলে তা সেবার মান উন্নত করে না, বরং বিদ্যমান ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, চিকিৎসকদের কর্মস্পৃহা নষ্ট করে এবং রোগীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন, নীতিমালা এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার লঙ্ঘন

এই ‘কাগুজে শয্যা’ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি শুধু একটি প্রশাসনিক অসঙ্গতি নয়; এটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক আইন, মানবাধিকার সনদ, শ্রমনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট পরিপন্থী। স্বাস্থ্যসেবা খাতে যেকোনো শয্যা বৃদ্ধি কেবল সংখ্যাগত সম্প্রসারণ নয়, বরং এর সঙ্গে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, অবকাঠামো, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব মৌলিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া শুধুমাত্র কাগজে-কলমে শয্যা বাড়ানো হচ্ছে, যা রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবার মান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ—সবকিছুকেই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

বাংলাদেশ সংবিধান ও দেশীয় আইন

বাংলাদেশ সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১৫ ও ১৮) অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অনুচ্ছেদ ১৮(১) অনুযায়ী জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করা হবে। অবকাঠামো ও জনবল ছাড়া শয্যা বৃদ্ধি করে রোগীদের গাদাগাদি পরিবেশে নিম্নমানের সেবা দেওয়া প্রকারান্তরে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬: এই আইনের ধারা ৬০, ৬১ ও ৬২ অনুযায়ী, যেকোনো কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমিক বা কর্মীদের (চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ) পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত শয্যার বিপরীতে নতুন কর্মী নিয়োগ না দিলে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয়, যা শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ওয়ার্ল্ড পেশেন্ট সেফটি

রোগীর নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার মূল শর্ত হলো—নির্দিষ্ট শয্যা সংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকা। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের অনুপাত না থাকলে চিকিৎসায় ভুল, ওষুধের ভুল প্রয়োগ এবং হাসপাতালে অর্জিত সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ

অবকাঠামো, ওয়ার্ডের আয়তন ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না বাড়িয়ে অতিরিক্ত শয্যা গাদাগাদি করে বসানো হলে দুটি শয্যার মধ্যকার ন্যূনতম নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এর ফলে একজন রোগীর সংক্রমণ সহজেই অন্য রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি শয্যার মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু কাগজে-কলমে শয্যা বাড়ানোর ফলে এসব ন্যূনতম মানদণ্ড উপেক্ষিত হচ্ছে, যা রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়ের জন্যই গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

নার্স-রোগী অনুপাত

আন্তর্জাতিক কাউন্সিল অব নার্সেসের (আইসিএন) বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, সাধারণ ওয়ার্ডে নার্স ও রোগীর আদর্শ অনুপাত হওয়া উচিত ১:৪ এবং আইসিইউতে ১:১। বাংলাদেশে এমনিতেই এই অনুপাত মারাত্মক সংকটের মুখে। নতুন জনবল ছাড়া শয্যা বাড়ালে একজন নার্সকে একসঙ্গে ৫০-৬০ জন রোগী দেখতে হয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ নীতিমালার পরিপন্থী এবং কর্মী ও রোগী উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।

যুক্তরাজ্যের এনএইচএস মডেলের বিধিমালা

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেলে নিরাপদ কর্মী বিন্যাস একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এনএইচএস-এর বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো হাসপাতালে যদি শয্যা সংখ্যার অনুপাতে দক্ষ জনবল কম থাকে, তবে সেই শয্যাগুলোকে অকার্যকর বা অনিরাপদ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে লজিস্টিকস ও কর্মী ছাড়া একটি শয্যাও বাড়ানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিফলন

দেশের মূলধারার সংবাদপত্রগুলোর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের এই ভয়াবহ চিত্র বারবার উঠে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫০০ শয্যার হাসপাতালে বাস্তবে ১০০০ থেকে ১৫০০ রোগী পর্যন্ত ভর্তি থাকছেন। এর ওপর প্রশাসনিকভাবে কাগজে-কলমে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হলেও সেই অনুপাতে বাজেট, জনবল বা চিকিৎসাসামগ্রী বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে রোগীদের অনেককে শয্যার নিচে, করিডোরে কিংবা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা মানবিক ও স্বাস্থ্যগত—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির চিত্রও প্রকট হয়ে উঠেছে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অনেক হাসপাতালে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ইসিজি মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকে; ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অভাব দেখা দেয়। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ডিউটি, রোগী ও স্বজনদের ক্ষোভ এবং সীমিত সম্পদের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী বার্নআউট ও মানসিক অবসাদে ভুগছেন। এর ফলে রোগীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি, সেবার মানের অবনতি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে।

দেশি ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান সংখ্যাগত পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দেশি ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উন্নয়ন কেবল শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না; বরং সেবার গুণগত মান, দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করাই একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ‘শুধু বেড বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিমাপ করা এক ধরনের প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব। একটি কার্যকর শয্যা মানে কেবল একটি ম্যাট্রেস বা খাট নয়; এর সঙ্গে অক্সিজেন লাইন, স্যালাইনের স্ট্যান্ড, সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য নার্স এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাক-আপ লজিস্টিকসও জড়িত।’ তাই প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো ছাড়া কেবল কাগজে-কলমে শয্যা বৃদ্ধি স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উন্নয়ন নয়, বরং এটি রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।

নকল সক্ষমতা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কাগজে-কলমে শয্যা বৃদ্ধি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে বাহবা পাওয়ার জন্য ভালো হতে পারে, কিন্তু এটি জনগণের মনে একটি মিথ্যা আশার সঞ্চার করে, যা জরুরি মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতকে ধসিয়ে দিতে পারে।

যৌক্তিক দাবি ও সুপারিশমালা

উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বার্থ রক্ষার্থে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রথমত, প্রতি একটি শয্যা বৃদ্ধির বিপরীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি এবং দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু শয্যা বাড়িয়ে জনবল না বাড়ালে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও ভেঙে পড়বে।

দ্বিতীয়ত, শয্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে। ওয়ার্ডের আয়তন, শৌচাগারের সংখ্যা, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের ধারণক্ষমতা না বাড়িয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করা হলে তা রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তৃতীয়ত, বর্ধিত শয্যার রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ, পথ্য (খাবার) এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ত বাজেট আগে থেকেই বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ছাড়া শুধুমাত্র প্রশাসনিকভাবে শয্যা চালু করলে বাস্তবে রোগীরা কোনো কার্যকর সুফল পাবেন না।

এ ছাড়া, কোনো হাসপাতালে নতুন শয্যা বৃদ্ধির আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড—যেমন এনএইচএস বা ডব্লিউএইচও গাইডলাইন—অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য একটি স্বাধীন টেকনিক্যাল অডিট কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এই কমিশনের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রকৃত সক্ষমতা, জনবল, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করে তারপরই নতুন শয্যা অনুমোদন দেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সংখ্যার খেলা নয়; এটি মানুষের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত এক সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশের সংবিধান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সকল বৈজ্ঞানিক নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনবল ও সরঞ্জামহীন ‘কাগুজে শয্যা’ বৃদ্ধির এই আত্মঘাতী প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। একটি নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংখ্যাগত দেখনদারির চেয়ে গুণগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

লেখক - 

মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন

এডিটর প্রফেশনাল ম্যাগাজিন
বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন
জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ


©মেডিভয়েস






নিউজটি আপডেট করেছেন : সিকান্দার আবু সাইম

কমেন্ট বক্স