ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করে অ্যাকশন নয়, রিঅ্যাকশন দেখিয়েছে সরকার’ বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল খুলে দেওয়ার আবেদন আদ-দ্বীনের মেডিকেল প্রশ্নফাঁসে জড়িত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ওএসডি দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ২৮ জুন চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে সিআইডি সিস্টিক ফাইব্রোসিসের জেনেরিক ওষুধ হস্তান্তর-বৈশ্বিক চিকিৎসা সেবায় বেক্সিমকো ফার্মার নতুন মাইলফলক হামে আরো এক শিশুর মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত ১১৪২ আদ্‌-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক কে এই জামালুন্নেসা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে ভুল করিনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনের পদত্যাগ ‘নির্দিষ্ট ঘটনায় দীর্ঘদিনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল সর্বোত্তম সমাধান নয়’ ক্লিনিকের এসি খুলতেই দেখা মিলল চার ফুটের কালনাগিনী সাপ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট ঢাকা ডেন্টালের অধ্যক্ষকে ডিডিওর দায়িত্ব প্রদান হাম ও হামের উপসর্গে ৩ মাসে ৬৫২ জনের মৃত্যু বন্ধ হচ্ছে না আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ দশ জেলায় আইসিইউ চালু হচ্ছে আজ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে এনএইচএ’র উদ্বেগ প্রকাশ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে সিআইডি

চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে সিআইডি ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ঢাকার ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মঙ্গলবার মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।

ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং ডা. আব্দুর রশীদের জামাতা স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ইয়ার্কির সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

মো. মশিউর রহমান শাহ নামের একজন আইনজীবী মঙ্গলবার সকালে আদালতে এ মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমান রাখে। পরে বিকেলে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন জানান, সিআইডির অ্যাডিশনাল এসপি বা তার চেয়ে উঁচু পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্ত করে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন বিচারক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন নিয়ন এদিন অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

বিয়ের পর থেকেই ধীপ্রা পারিবারিকভাবে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ শিকার হচ্ছিলেন অভিযোগ করে মামলার আর্জিতে বলা হয়, “এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মদানের পর পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।

“চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। পাশাপাশি এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি পোস্ট করেছিলেন।”

আর্জিতে বলা হয়, “গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ডা. ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে খাবার দেওয়া হয়নি এবং দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন খবর পেয়ে তার মা ধানমন্ডির বসতী গ্রীন আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

“পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে চিকিৎসক ধীপ্রা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব’। এরপরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত কাছের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”

ধীপ্রার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ‘ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই’ একটি ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার অন্যতম আসামি ডা. আব্দুর রশীদ বলেন, “পরিবারের একজন সদস্যকে হারিয়ে আমরা এমনিতেই ট্রমার মধ্যে আছি। নাফিসা যে সন্তান রেখে গেছেন, তাকে নিয়ে উদ্বেগ সবার মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে নাফিসার বাবা-মায়ের সঙ্গেও আমাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ হচ্ছে। নাফিসার অসুস্থতা এবং শেষ সময়ে তারাও সঙ্গে ছিলেন।

“এর মধ্যে সোমবার কেউ একজন মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন বলে শুনেছি। নাফিসার পরিবার থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে এই মামলার বাদীকে তারা চেনেন না, তাদের সঙ্গে বাদী কোনো যোগাযোগও করেনি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী আইনজীবী মশিউর রহমান শাহ বলেন, “ডাক্তার ধীপ্রার পরিবারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগও হয়নি। আমারও তো দুটো কন্যা সন্তান আছে, তাদের এরকম বিপদে যেন অন্য কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়, সেজন্য আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি।”


নিউজটি আপডেট করেছেন : সিকান্দার আবু সাইম

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ